১১ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা আ.লীগের সম্মেলন: তারুণ্যনির্ভর ও সাহসী নেতৃত্বের দাবি
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:২৮ অপরাহ্ন | রাজনীতি
শামসুল কাদির মিছবাহ (সুনামগঞ্জ):
আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ঢাকায় অবস্থান করছেন জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে পদ প্রত্যাশীরা। তাঁরা দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। এদিকে কে হচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদের কাণ্ডারি এনিয়ে দলের নেতাকর্মীসহ সকল মহলে চলছে জল্পনা-কল্পনা। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও দলের ওয়াকিবহাল মহল বলছেন সামনে জাতীয় নির্বাচন হবে আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জেলা কমিটির শীর্ষ পদগুলোতে শক্তিশালী, সৎ ও সাহসী নেতৃত্ব অপরিহার্য্য। দলের ক্রান্তিকাল ও দুঃসময়ে যাঁরা দল ও দলের কর্মীদের আগলে রেখেছেন তাঁদেরকে শীর্ষ পদে আসীন না করতে পারলে রাজপথের বিরোধীদের মোকাবেলা করা সম্ভব তো হবেই না বরং জাতীয় নির্বাচনে দলের ভরাডুবি ত্বরান্বিত হবে।
তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা বলেন, ওয়ান ইলেভেনসহ দলের দুঃসময়ে রাজপথের বিরোধীদের কঠিন মোকাবেলায় যাঁরা শক্তিশালী ও সাহসী ভূমিকা রেখেছেন তাঁদেরকে দীর্ঘদিন দলের শীর্ষ পদের বাইরে রাখায় জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে শীর্ষ পদে তারুণ্যনির্ভর ত্যাগী ও সাহসী নেতৃত্বের বিকল্প নেই।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি মতিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন। পরে ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়েছিল। প্রায় আট বছর পর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি সাবেক এমপি মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট প্রমুখ।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহ-সভাপতি নোমান বখত পলিন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক জুনেদ আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান সেলিমের নাম আলোচনায় রয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস গণমাধ্যমকে বলেন, জনবান্ধব, কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। বর্তমান কমিটির অনেকেই মারা গেছেন। অনেকেই আছেন বয়সের ভারে ন্যূজ। যাঁরা একেবারেই চলাচল করতে পারেন না, তাদের মূল দায়িত্বে না রাখাই ভালো।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খায়রুল হুদা চপল বলেন, দলের সুসময়ে কেবল নয় ক্রান্তিকালেও আমরা সক্রিয় ছিলাম। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও আমার ভাই নুরুল হুদা মুকুট সাহসিকতার সঙ্গে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করে রেখেছেন। দলের জেলা কমিটির তাঁদেরকে রাখলে দল শক্তিশালী থাকবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে জেলার সব কয়টি আসনে দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে শক্তিশালী কর্মী বাহিনী কাজ করবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, সেটি দলীয় প্রধান, কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতৃত্ব ছাড়া আমরা কেউ-জানি না। ১১ ফেব্রয়ারি সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত হয়েছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। প্রায় আট বছর দলের দায়িত্ব পালন করেছি, দলকে গুছানোর চেষ্টা করেছি। দলীয় প্রধান বঙ্গবন্ধু কন্যার দেওয়া দায়িত্বকে আমানত মনে করেই জেলার প্রত্যেক স্তরের কর্মীদের সক্রিয় রাখার চেষ্টা করেছি। সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করতে চাই আমরা।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নোমান বখত পলিন বলেন, সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগকে তৃণমূলে সুসংগঠিত করতে আমাদের পরিবারের অনেক ত্যাগ রয়েছে। আমার মরহুম পিতা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ভাষাসৈনিক হোসেন বখত ভাষা আন্দোলনের জন্য কারাবরণ করেছেন। তিনি সুনামগঞ্জে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করেছিলেন। আমার অগ্রজ সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রয়াত চেয়ারম্যান মনোয়ার বখত নেকসহ তিন সহোদর বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। সুনামগঞ্জ পৌরসভার টানা দুইবারের মেয়র আমার অগ্রজ প্রয়াত আয়ূব বখত জগলুল সংগঠনকে তৃণমূলে শক্তিশালী করতে অনেক ত্যাগ ও শ্রম দিয়েছেন। আরেক অগ্রজ টানা দুই মেয়াদে বর্তমান পৌর মেয়র নাদের বখত করোনা ও বন্যায় মানুষের পাশে ছিলেন। আমি নিজেও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সকল দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে থেকেছি। এছাড়াও দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছি।
আমি আশাবাদী জননেত্রী শেখ হাসিনা আসছে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আমাদের কর্মের মূল্যায়ণ করবেন এবং নেত্রী যে সিদ্ধান্তই দেবেন সেটাই মেনে নেবো।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়। আমরা সম্মেলনের আয়োজন করেছি। সম্মেলনের পোস্টার তৈরিসহ অন্যান্য সকল কাজই শেষ পর্যায়ে। সকল নেতা কর্মীদের সম্মেলন সফল করতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত) আহমেদ হোসেন বলেন, কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলর হচ্ছে সম্পূর্ণ ক্ষমতার মালিক। তাঁরাই সিদ্ধান্ত নেবে কারা দলের দায়িত্বে থাকবে।

